পৃথিবীতে গ্রহাণুর হামলা

Share This
Tags

পৃথিবীতে গ্রহাণুর হামলা অবশ্যম্ভাবী। শুধু সময়ের অপেক্ষা। তারপরই হয়তো ধ্বংস হবে পৃথিবীর নামীদামী শহরের অনেকগুলি। এমনটাই সতর্কবাণী শুনিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

৩০ জুন সারাবিশ্বে “আন্তর্জাতিক গ্রহাণু দিবস” হিসাবে পালন করা হয়। ১৯০৮ সালের ৩০ জুন রাশিয়ার সাইবেরিয়ার গহীন জঙ্গলে বিশাল এক গ্রহানু আঘাত করেছিল, যার ফলে ৪০ মাইল দূরেও এর প্রভাব পড়েছিল। ৭৭০ বর্গকিলোমিটার বন পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এরকম আরেকটি বড় গ্রহাণু চার বছর আগে রাশিয়ার চেলিয়াবিংক্সির আকাশের বায়ুমন্ডলে ঢুকে পড়েছিল। তবে এটি পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার আগেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু, বায়ুমন্ডলে প্রবেশের ফলেই এটি সূর্যের চেয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল, আর তারই উত্তাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল প্রায় ৭ হাজার দালানকোঠা, আহত হয়েছিল সহস্রাধিক মানুষ।

সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে একটি বড় গ্রহাণু আমাদের ধরিত্রীকে আঘাত করলে কী পরিমাণ ধ্বংসলীলীলা করবে। কিন্তু, নাসা এখন এ ব্যাপারে অনেক সচেতন। আর তাই বলা হয়, নাসা যদি তাদের কার্যক্রম যথাযথভাবে অব্যাহত রাখে তাহলে মহাপ্রলয় হয়তো এতো ভয়ঙ্কর হবে না।

পৃথিবীতে ধেয়ে আসা গ্রহাণুপুঞ্জ নাসা কীভাবে প্রতিরোধ করে এই নিয়ে একটি বিস্তৃত প্রতিরক্ষা কৌশল পকিল্পনা প্রকাশ করলো এই আন্তজার্তিক মহাকাশ সংস্থা । নাসা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানানা হয়েছে, প্রতিদিনই পৃথিবীর দিকে অসংখ্য গ্রহাণু ধেয়ে আসে। তার বেশির ভাগই বায়ুমন্ডলের ঘর্ষণে ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু, এমন কিছু বৃহৎ গ্রহাণু আছে, যা বায়ুমন্ডলের ঘর্ষণে জ্বলে শেষ হতে পারে না, ফলে তা পৃথিবীতে ভূপাতিত হয়, অর তার তীব্র গতিশীল পতনের ফলে ভূপৃষ্ঠে বিশাল গহবরও তৈরি হয়ে যায়। আরো বড় গ্রহাণু হলে ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পও হতে পারে। এই জন্য নাসা সবচেয়ে বেশি সচেতন এইসব বিশাল গ্রহাণুর প্রতি। প্রতি মুহূর্তেই নজর রাখতে হয় কোনো গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে ছুটে আসছে কি-না। এর জন্য নাসা দ্বিগুণ সচেতনতা অবলম্বন করছে। আর তার জন্য নিজেদের সাথে নিয়েছে ডার্ট প্রোজেক্ট। ম্যারিল্যান্ডে জন হপকিন্স পদার্থ বিজ্ঞানের ল্যাবরেটরির মাধ্যামে নাসা যৌথভাবে নজর রাখছে মহাকাশের দিকে। অদূর ভবিষ্যতে ধেয়ে আসা গ্রহাণুপুঞ্জের দিকেও নজর রাখছে তারা। যদি সেরকম বিপদজনক কিছু হয় তাহলে যেন মহাশূন্যেই তা ধ্বংস করে দিতে পারে সে জন্য তারা এখনই তৈরি। পরীক্ষাস্বরূপ তারা মহাকাশে অনেক ছোট ছোট গ্রহাণু ধ্বংস করেছে। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে পৃথিবীর কাছে ধেয়ে আসার কথা রয়েছে ডিডিমস নামের একটি গ্রহাণুর। সেটা ধ্বংসের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই নাসা ও ডার্ট প্রোজেক্ট নিয়ে রেখেছে। এ জন্য তারা ফ্রিজের আকারের একটি নভযান পাঠাবে। নাসার সংবাদবিজ্ঞপ্তি থেকে জানানো হয়েছে তাদের এই নভযানটি সেকেন্ডে প্রায় ৩.৭ মাইল বেগে চলতে সক্ষম। নভযানটি গিয়ে ওই গ্রহাণুর গতিপথ ঘুরিয়ে দিবে।

বলা হচ্ছে, পৃথিবীর আশপাশে মোট ১৮০০ এবং গ্রহাণু বা গ্রহাণুর মতো বস্তু মহাকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে বলে আবিষ্কার করা গেছে। এর চেয়েও বেশি সংখ্যায় গ্রহাণুর এখনো খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। গ্রহাণুর খোঁজ বিজ্ঞানীদের মতে রোজই একটা না একটা গ্রহাণুর খোঁজ মেলে। তার বেশিরভাগই ততটা ক্ষতিকর নয়। তবে তার মানে এটা নয় যে সাইবেরিয়ার মতো হামলা আর হবে না। যেকোনো দিন অজান্তে হামলা হতে পারে। তাই তার হাত থেকে বাঁচতে ও বড় গ্রহাণু খুঁজে বের করতে নিরন্তর গবেষণা চলছে।

About the Author