Published On: বুধ, সেপ্টে. 4th, 2019

বিদ্যাসাগরের জন্মের ২০০ বছরের অনুষ্ঠান, বৈঠক বিধানসভায়

Share This
Tags

কলকাতা:  শেষ পর্যন্ত ইংরেজি ক্যালেন্ডার মেনে ২৬ সেপ্টেম্বরই হবে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মের ২০০ বছরের অনুষ্ঠান। মঙ্গলবার এ কারণে বিধানসভা ভবনে রাজ্যের শিক্ষা ও পরিষদীয়মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পৌরহিত্যে একটি আলোচনাসভা হয়। 
বিধানসভার নৌশাদ আলি কক্ষে এই আলোচনায় ছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান, বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রঞ্জন চক্রবর্তী, ওই প্রতিষ্ঠানের রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং ইংরেজি বিভাগের দুই অধ্যাপক শিবাজীপ্রতীম বসু ও দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পলা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের পাঠ্যপুস্তক কমিটির চেয়ারম্যান অভীক মজুমদার, লেখক-গবেষক নৃশিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি প্রমুখ। ছিলেন কিছু আমলা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তি। 

অনুযায়ী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্ম ২৬ সেপ্টেম্বর। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১২ আশ্বিন। পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মের ২০০ বছর উপলক্ষে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে চায় রাজ্য সরকার। ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ওই দিনই বিদ্যাসাগরের জন্মদিন। যে কোনও সরকারি কাজকর্ম ইংরেজি ক্যালেন্ডার মেনেই হয়ে থাকে। তাই বিদ্যাসাগরের জন্ম-দ্বিশতবার্ষিকী পালনের সরকারি অনুষ্ঠানের জন্য এই দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়। তাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও হাজির থাকার কথা। বিদ্যাসাগরের জন্ম দ্বি-শতবার্ষিকী পালনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন ধরে নিয়েই জেলা প্রশাসনের তরফে সবরকম প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের জন্য নবান্নেও তোড়জোড় চলছে। কিন্তু সেই উদ্যোগে বাদ সেধেছে বাংলা ক্যালেন্ডার।

বাংলার সব মনীষীর জন্মদিন বাংলা তারিখ মেনে হয় না। রবীন্দ্রনাথের ২৫শে বৈশাখ। আবার নেতাজির ২৩ জানুয়ারি। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, বিদ্যাসাগরের জন্মদিন ১২ আশ্বিন। এ বছর সেটা পড়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর। প্রথম থেকেই বাংলা ক্যালেন্ডার মেনেই তাঁর জন্মভিটে বীরসিংহ গ্রামে বিদ্যাসাগরের জন্মদিন পালন করা হয়। যার উদ্যোক্তা বিদ্যাসাগর স্মৃতিরক্ষা কমিটি। তারাই বিদ্যাসাগরের জন্মভিটের দেখভাল করে থাকে। রাজ্য সরকার ইংরেজি ক্যালেন্ডার মেনে ২৬ সেপ্টেম্বর বিদ্যাসাগরের জন্ম দ্বি-শতবার্ষিকী পালন করতে চাইলেও বেঁকে বসেছে স্মৃতিরক্ষা কমিটি। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মূল অনুষ্ঠান হবে ২৬শে। এ ব্যাপারে উপাচার্য রঞ্জন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে একাধিক কমিটি। আজ বিধানসভার বৈঠকের পর শিবাজীপ্রতীমবাবু ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-কে বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে এবার প্রথম বিদ্যাসাগর পুরস্কার চালু করা হচ্ছে। গত দু’বছর বিদ্যাসাগর রচনাবলীর দুটি খন্ড প্রকাশ করেছিলাম ২৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হবে এটির তৃতীয় খন্ড। ওই দিন বীরসিংহ গ্রামে বিদ্যাসাগরের বাড়িতে হবে অনুষ্ঠান। 

কলকাতায় মূল অনুষ্ঠানটি হবে বাদুরবাগানে বিদ্যাসাগরের বাড়িতে। থাকবে তাঁর তৈলচিত্র, ব্যবহার্য নানা জিনিস নিয়ে প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে ভবিষ্যতে বিদ্যাসাগর-বিষয়ক একটি গবেষণাকেন্দ্র তথা সংগ্রহশালা করার পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। এই অনুষ্ঠানের রূপরেখা তৈরি করতে গত বৃহস্পতিবার বীরসিংহ গ্রামে যান জেলা প্রশাসনের কর্তারা। তাঁদের কাছ থেকেই স্মৃতিরক্ষা কমিটির কর্তারা জানতে পারেন ২৬ সেপ্টেম্বর বিদ্যাসাগরের জন্ম দ্বি-শতবার্ষিকী পালনের অনুষ্ঠান করতে চায় রাজ্য সরকার। ওই দিনই মুখ্যমন্ত্রী বীরসিংহ গ্রামে আসবেন। সরকারি সূত্রের খবর, এটা শোনার পরই আপত্তি তোলেন স্মৃতিরক্ষা কমিটির সদস্যরা। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের তাঁরা সবিনয়ে জানিয়ে দেন, এতদিন ধরে বাংলা ক্যালেন্ডার মেনে বিদ্যাসাগরের জন্মদিন পালন করে এসেছেন তাঁরা। সেই অনুযায়ী বিদ্যাসাগরের জন্মদিন ১২ আশ্বিন। এবার ১২ আশ্বিন পড়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর। বাংলা ভাষায় বিদ্যাসাগরের অবদানের কথা মাথায় রেখে বাংলা ক্যালেন্ডার মেনে বিদ্যাসাগরের জন্মদিন পালন করার আর্জি জানান তাঁরা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বিষয়টি লিখিত আকারে মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হবে।

About the Author