Published On: বৃহস্পতি, সেপ্টে. 12th, 2019

ভিখারির ডাক্তার নয়, অসহায়ের সহায়, অনাথের ভগবান।

Share This
Tags

পেশায় স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ডাক্তার। এঁদের স্বপ্ন বড়ই অদ্ভুত। সোনা দানা, হীরে জহরত, নয়। স্বপ্নের বিলাস বহুল ব্র্যান্ডেড গাড়ি নয়। শহরের নামী দামী জায়গায় বিলাস বহুল  বাংলোয় থাকা নয়।  কোন মানুষকেই অচ্ছুৎ মনে করা নয়।  স্বপ্ন   একটাই।  এই সমাজের অসহায়, দুঃস্থ,  নিপীড়িত,গৃহহীন রুগ্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে দেবতাসুলভ মানবিক হাত বাড়িয়ে দেওয়া। তাঁদের নিঃশর্ত ভালবাসা আর আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে জীবনের পথে চলা। এঁরা ধার ধারেন না কে  কি বলল বা বলবে, কে কি ভাবছে বা ভাববে,  এঁরা মানেন না সমাজের কোন কৃত্রিম স্ট্যাটাস। ধার ধারেন না কোন সশব্দ আন্দোলন বা সংগ্রামের। ধার ধারেন শুধু মাত্র মানবিক প্রশ্নের, মূল্যবোধের। তাই নিজের ঢাক নিজে না পিটিয়ে সেবা মূলক নিঃশব্দ আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের এক নতুন রাস্তা খুঁজে নিয়েছেন। আমরা পেয়েছি এক নতুন উদাহরণ, নতুন এক জীবনের সার্থকতার এক নতুন মানে।

ডঃ অভিজিৎ সোনাবনে  এবং ডঃ মনীষা সোনাবনে দুজনেই একদম ভগবান প্রদত্ত জুড়ি। একে  অপরের পরিপূরক। রাস্তায় পরে থাকা পথচারী, দুঃস্থ এবং ভিখিরি দের চিকিৎসা করে, এক অনবদ্য নজীর গরে  তুলছেন। ১৯৯৯  সালে ডাক্তারি পাশ করার পর বুঝতে পারেন, জীবন কত  কঠিন। প্র্যাকটিস করতে পারার মত সামর্থ্য ছিলনা । প্রায় হতাশ হয়ে পড়েন ।

এই সময়ে এক গ্রামের সরপঞ্চ তাকে বলেন, তুমি ভাবছ কেন? তোমার কাছে রোগী না আসুক, তুমি তাঁর কাছে পৌঁছে যাও। কথা শুনে ডাক্তার সোনাবনে  এক দারুন উপায় পেলেন। একজন বুদ্ধিমানের কাছে ইশারাই যথেষ্ট। তিনি পাশাপাশি ১২ টি  গ্রামের সমস্ত রোগী কে দেখা শোনা করতে লাগলেন।  এই কাজ করতে করতে অনেক ভিখারির সংস্পর্শে এসে ডঃ সোনাবনে এক নতুন দিশা পেলেন।  এই অসহায় মানুষেরা তাঁর সাহচর্যে এসে মুগ্ধ হয়ে যেত। মনের কথা , নিজের সমস্যা খুলে জানাতে শুরু করল। এবার ডাক্তার সনাবনের কাজের এক নতুন মাত্রা দেখা দিল। শুধু চিকিৎসা নয়। শুরু করলেন এঁদের প্রয়োজন মত  জীবিকার জন্য সহযোগিতা।  অসংখ্য মানুষকে ভিক্ষা বৃত্তি ছেড়ে নিজে সন্মানের সাথে জীবন এবং সমাজের মুল স্রোতে নিয়ে এলেন  ডাক্তার সোনাবনে।  জীবনে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর রাস্তা দেখালেন। এখন সাবলম্বি মানুষের ৫০ পেরিয়ে গেছে যারা ডাক্তার সনাবনের সংস্পর্শে এসে নিজের জীবনের মানে নতুন করে খুঁজে পেয়েছেন।

সকাল ১০ থেকে বিকেল  ৪ টে পর্যন্ত মসজিদ, চার্চ এবং রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষ খুঁজে  তার সেবা চিকিৎসা করা, ওষুধ দেওয়া, আর অনেক কিছু।

আজ প্রায় ১২০০ ভিক্ষুক এই পরিষেবার সুযোগ পাচ্ছেন।  ১৬০ জন ভিক্ষুকের চোখের ছানি সরিয়ে নতুন করে পৃথিবীর আলো  দেখিয়েছেন। কিছু কিছু ভিক্ষুক কে স্থানীয় বৃদ্ধাশ্রমে বন্দোবস্ত করেছেন। এছাড়া অনেক ছোটো বড় অপারেশান করে মানুষ কে  নতুন জীবন দিয়েছেন।

সেবা করা কথাটা শুনতে খুব ভাল লাগে, কিন্তু সত্যি করে করাটা ভীষণ কঠিন। জীবনে অনেক কিছু সহ্য করতে  হয়, সামনা করতে হয়। জীবনের অনেক ঝাপটা সামলে কাজ করতে হচ্ছে। একটি ছোটো সাধারন চেম্বারের আর থেকে কিছু সাশ্রয় করে চলছে এই সেবা কাজ।

ডঃ সোনাবনে এবং তাঁর সহধর্মিণী ডঃ মনীষা সোনাবনে  নিজেদের ভিখারির ডাক্তার বলে ভাবতে ভাল বাসেন।গর্ব বোধ করেন।  কিন্তু আমাদের কাছে এঁরা ভগবান।  দুঃস্থ, নিপীড়িত, জর্জরিত, গৃহহীন,  সহায় সম্বল হীন মানুষের পাশে যেভাবে দারিয়েছেন, এঁরা মানুষের ভগবান। আমরা কি পারিনা, একটু এঁদের পাশে দাঁড়াতে? একবার দেখতে পারেন, Dr. Abhijit Sonawane,  9822267357

About the Author