Published On: মঙ্গল, ডিসে. 3rd, 2019

বাংলার প্রথম শহীদের আজ জন্মদিন।

Share This
Tags

‘একবার বিদায় দে – মা ঘুরে আসি।

হাসি হাসি পরব ফাঁসি দেখবে জগৎবাসী।

কলের বোমা তৈরি করে।

দাঁড়িয়ে ছিলেম রাস্তার ধারে মাগো,

বড়লাটকে মারতে গিয়ে

মারলাম আরেক ইংল্যান্ডবাসী।

শনিবার বেলা দশটার পরে।

জজকোর্টেতে লোক না ধরে মাগো

হল অভিরামের দ্বীপ চালান মা ক্ষুদিরামের ফাঁস,

দশ মাস দশদিন পরে,

জন্ম নেব মাসির ঘরে মাগো।

তখন যদি না চিনতে পারিস দেখবি গলায় ফাঁসি’।

আজ সেই দিন। ১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর, পশ্চিম মেদিনীপুরের মৌবনী (হাবিবপুর)-এ জন্ম বাংলার বীর শহিদ ক্ষুদিরাম বসু। ত্রৈলক্যনাথ বসু ও লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবীর ঘর আলো করে জন্ম নেন এই বাংলার এই বীর সন্তান। ক্ষুদিরামের জন্মের আগে ত্রৈলক্যনাথ ও লক্ষ্মীপ্রিয়ার দুই পুত্র সন্তান আগেই মারা যায়। এই পুত্র সন্তানটি যাতে সুস্থ থাকে, তার জন্য তিন মুঠো খুদের বিনিময়ে নিজের বোনের কাছে ক্ষুদিরামকে তুলে দেন লক্ষ্মীপ্রিয়া। খুদের বিনিময়ে সন্তানকে তুলে দেওয়া হয় বলে ছেলের নাম রাখেন ‘ক্ষুদিরাম’।

ক্ষুদিরাম তমলুকের হ্যামিলন্টন স্কুল ও মেদিনীপুর কলিজিয়েট স্কুলের ছাত্র। ক্ষুদিরাম ছোট থেকেই ভীষণ ডানপিটে ও লড়াকু স্বভাবের ছিলেন। দেশ যখন স্বাধীনতার আন্দলনে ক্রমেই জ্বলে উঠছে এমন এক সময় সত্যেন্দ্রনাথ বসুর সংস্পর্শে আসেন ক্ষুদিরাম। কিশোর ক্ষুদিরামের মনেও জ্বলতে থাকে স্বাধীনতা কামনার মশাল। ১৯০৮ সালে বৈশাখের এক সন্ধ্যায় ঊনিশ বছরের ক্ষুদিরাম বসু আর সদ্য যুবা প্রফুল্ল চাকি অত্যাচারী ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে খুনের অভিযানে নেমেছিলেন। কিংসফোর্ডকে হত্যার উদ্দেশ্যে মুজফ্ফরপুর আসা ক্ষুদিরাম বসু আর প্রফুল্ল চাকির নিশানা ব্যর্থ হয়েছিল। ঘটনার পর ধরা পড়লে প্রফুল্ল চাকি নিজেকে গুলি করে আত্মবলিদান দিয়েছিলেন। আর ক্ষুদিরাম ধরা পড়েছিলেন। তার পর মুজফ্ফরপুরে জেলবন্দি।তার পর বিচারে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম শহিদ মেদিনীপুরের এই বিপ্লবীর ফাঁসি হলো মুজফ্ফরপুরেই। স্বাধীনতার জন্য শহিদ ক্ষুদিরামের আত্মবলিদান আজও গৌরবের সঙ্গে স্মরণ করে মুজফ্ফরপুরের মানুষ। ক্ষুদিরামের চিতাভূমিও মুজফ্ফরপুরেই। মুজফ্ফরপুর কারাগার ১৯৯৫ সালে নাম বদলে হয়েছে ‘শহিদ ক্ষুদিরাম বোস কেন্দ্রীয় কারা’। ক্ষুদিরামের স্মৃতিবিজড়িত সংরক্ষিত কক্ষ যেমন আছে, তেমনই প্রফুল্ল চাকির নামেও আছে সংরক্ষিত এলাকা। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষুদিরাম তাঁর শেষ চিঠিতে জন্মভূমি মেদিনীপুরে এক বার যেতে চেয়েছিলেন। সে ইচ্ছে অপূর্ণই থেকে গিয়েছে। ক্ষুদিরামের নামে স্টেশনের নামকরণ হয়েছে বিহারেই। সমস্তিপুর জেলার পুসা রেলস্টেশন এখন ‘ক্ষুদিরাম বোস পুসা’। এমন বীর বিপ্লবীর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ই যেন বিদ্রোহের চেতনায় লিখেছিলেন সর্বেশ্বর।

About the Author