লোধ শবর সম্প্রদায়ের মহিলাদের নিয়ে সচেতন শিবির ঝাড়গ্রামে

Share This
Tags

ঝাড়্গ্রামঃ সচেতনার অভাবে অনেক সময় বাড়িতে প্রসবের ফলে সদ্যজাতের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এমনকি আঠারো বছরের আগেই অনেক ছেলে মেয়েদের বাল্য বিবাহ দেন লোধা শবর সম্প্রদায়ের মানুষজনেরা। তাই এই অউন্নত লোধ শবর মহিলা পুরুষদের সচেতনা করার জন্য এক আলোচনা শিবিরের আয়োজন করেছিল ঝাড়্গ্রাম শহরের কদমকানন ইউনাইটেড ক্লাব। শনিবার ঝাড়্গ্রাম পৌর সভা এলাকার সবচেয়ে বড় শবর পাড়া এক নম্বর ওয়ার্ডের শিরিষচক এলাকায় অবস্থিত। ঝাড়্গ্রাম শহরের মধ্যে থেকেও সচেতনার অভাব। যেখানে হাতের কাছেই রয়েছে ঝাড়্গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তা সত্ত্বেও হাসপাতালে না গিয়ে বাড়িতে সদ্য জাতের প্রসব করান লোধা শবর মহিলারা। আর তাতেই ঘটে মৃত্যুর ঘটনা। বাড়িতে প্রসব হওয়ার কারণে লোধা শবর ছেলে মেয়েরা জন্ম প্রমান পত্র থেকে বঞ্চিত হয়। যার  ফলে পরবর্তী সময়ে বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে সমস্যায় পড়তে হয় শবর পরিবারের সদস্যদের বা অনেক ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য থেকে বঞ্চিত হয় তারা। এদিনের আলোচনা সভায় শবর সম্প্রদায় ভুক্ত পরিবার গুলির সদস্যদের নিয়ে বাড়িতে প্রসব  করান এবং বাল্যবিবাহের খারাপ দিক গুলি তুলে ধরেন ক্লাবের সদস্যরা। পাশাপাশি তামাক দ্রব্য থেকে নিজেকে এবং নিজের সন্তানকে দূরে রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয় মহিলাদের। তামাক জাত দ্রব্য সেবনের খারাপ দিক গুলিও তাদের সামনে তুলে ধরে সচেতন করার চেষ্টা করেন।এদিনের এই আলোচনা সভায় প্রায়  ৩০ জন লোধা শবর মহিলা উপস্থিতি হয়েছিলেন। সচেতনতা কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগে মহিলাদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। লোধা শবর মহিলা এদিন শপথ নিয়েছেন এরপর বাড়িতে প্রসব নয় এবং বাল্যবিবাহ দেবেন না। প্রাপ্তবয়স্ক হলে ছেলে মেয়েদের বিয়ে দেবেন। কারোর  বাচ্চা হওয়ার থাকলে হাসপাতালে চিকিৎসা করাবেন বলে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে সচেতনতা শিবিরে। এদিন স্থানীয় ঝাড়গ্রাম কদমকাননে ইউনাইটেড ক্লাবের পক্ষ থেকে শবর পাড়াতে নজরদারির চালানোর জন্য পাঁচজনের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাতে ক্লাবের মহিলা সদস্যদের রাখা হয়েছে। তারা প্রতি সপ্তাহে এলাকা পরিদর্শন করবে এবং কোথাও বাল্যবিবাহ হলে সাথে সাথে প্রশাসনকে জানাবে, বাল্যবিবাহ রোধে সব ক্লাবের পক্ষ থেকে রকম সহযোগিতা করবে প্রশাসনকে।এমনটাই জানা গেছে  ক্লাব সূত্রে। এদিন এই আলোচনা সভায় একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ৫০ জন লোধা শবর ছেলে মেয়েদের শীতবস্ত্র প্রদান করেন। এবিষয়ে ঝাড়গ্রাম কদমকানন ইউনাইটেড ক্লাবের  সাধারণ সম্পাদক  প্রান্তিক মৈত্র ও আহ্বায়ক সাগর গুইন  বলেন “আমাদের ক্লাবের পক্ষ থেকে এইরকম সচেতনতা মূলক উদ্যোগ বরাবর নিয়ে আসা হয়।যার ফলে এখন মানুষ অনেকটাই সচেতন হয়েছেন।আগামী দিনেও যাতে বাড়িতে কারো প্রসব না হয় এবং বাল্যবিবাহ না হয় সেই দিকে নজর রাখা হবে।।সেই রকম কোনো ঘটনা ঘটলে তৎক্ষণাৎ আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো।”

About the Author