পরিযায়ীদের আগমনে খুশির হাওয়া রায়গঞ্জ তথা জেলাবাসী ও প্রশাসনের মধ্যে।

Share This
Tags

ভাস্কর রায়, কালিয়াগঞ্জঃ সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর লকডাউনের শেষদিকে ‘পরিযায়ী ‘ শব্দটা মানুষের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি করেছে।ভীনরাজ্য থেকে পরিযায়ীদের নিয়ে ট্রেন বা বাস এলাকায় এলেই প্রশাসন  ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ আরও চেপে বসছে।কিন্তু এই পরিযায়ীদের আগমনে খুশির হাওয়া রায়গঞ্জ তথা জেলাবাসী ও প্রশাসনের মধ্যে। কারন এই পরিযায়ীরা ভীনরাজ্যের শ্রমিক নয়, ভীনদেশ থেকে আসা পরিযায়ী পাখি।নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় একমাস আগে থেকেই এই পরিযায়ী পাখিরা রায়গঞ্জের কুলিক পক্ষীনিবাসে আসতে শুরু করেছে। লকডাউনের জেরে দূষণ হ্রাস ও বর্ষা শুরু হয়ে যাওয়ায় পরিযায়ী এই পাখিরা অনেক আগে থেকেই এই পক্ষীনিবাসে ভীড় জমাতে শুরু করেছে। চলতি বছরে রেকর্ড সংখ্যক পাখি আসবে বলে বনদপ্তর আশা করছে। রায়গঞ্জ শহরের পাশেই সোহারই,ভট্টদিঘি ও আব্দুলঘাটা – এই ৩ টে মৌজার প্রায় ৩৭০ একর জায়গা নিয়ে সদ্য এশিয়ার বৃহত্তম তকমা পাওয়া এই পক্ষীনিবাসটি গড়ে উঠেছে। পাকিস্তান, মায়ানমার ইত্যাদি উত্তর পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে এই পরিযায়ী পাখিরা ( কর্মোন্যান্ট, ইগ্রেট, নাইট হেরন ও ওপেন বিল স্টর্ক) জুলাই মাস নাগাদ এই পক্ষীনিবাসে আসে।সেখানে পাখিগুলি ডিম পাড়ে।সেই ডিম ফুটে বাচ্চা হয়ে সেগুলি উড়তে শেখার পর ডিসেম্বর মাসে পাখিগুলো ফিরে যায়।২০১১ সালে এই পক্ষীনিবাসে পাখির সংখ্যা কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়।এরপর জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার পরামর্শ মেনে পরিকাঠামোর ও খাদ্যের যোগানের কিছু উন্নতি করার পর পরিযায়ী পাখির সংখ্যা প্রতি বছর বাড়তে শুরু করে। রায়গঞ্জের ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার সোমনাথ সরকার জানিয়েছেন, ” করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের সময় পরিযায়ী শব্দটার সাথে মানুষের দুশ্চিন্তা জুড়ে গিয়েছে। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে পরিযায়ী পাখিরা খুশির বার্তা এনেছে।নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় এক মাস আগে থেকেই এই পরিযায়ী পাখিরা এই পক্ষীনিবাসে আসতে শুরু করেছে। দূষন কমে যাওয়া ও আগে থেকে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পাখিরা আসতে শুরু করেছে। আমাদের আশা এবার পরিযায়ী পাখির সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। “

About the Author