ফের ভিন রাজ্যে পাড়ি বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের

Share This
Tags

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ কোভিড পরিস্থিতিতে লকডাউনের ফলে কাজ হারিয়ে সর্বশান্ত পরিযায়ী শ্রমিকরা বাংলায় ফিরে এসেছিলেন। আশা ছিল, বাংলায় কোনো না কোনো কাজ জুটে যাবে। কিন্তু তারা এখানেও তেমন কোনো কাজ পাচ্ছেন না। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও কাজের সুযোগ না হওয়ায় বাংলার জেলাগুলি থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা ফের ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে শুরু করেছেন।
বুধবার অন্ডাল বিমানবন্দরে দেখা গেল বোর্ডিংয়ের জন্য শ্রমিকদের দীর্ঘ লাইন। আসানসোল, দুর্গাপুর, জামুড়িয়া থেকে দলে দলে শ্রমিক গুজরাতগামী বিমান ধরবেন বলে সকালেই পৌঁছে গিয়েছেন বিমানবন্দরে। বিমান বন্দরে হাজিএ সামসুল, রঞ্জিত, অনিলরা জানান, গুজরাতের কারখানায় কাজ করতেন তাঁরা। লকডাউনের ফলে কারখানা বন্ধ থাকায় ফিরে এসেছিলেন রাজ্যে। কিন্ত এখানে কোন কাজের সুযোগ না পেয়ে ফের গুজরাতের উদ্দেশেই পাড়ি দিচ্ছেন তাঁরা।

পশ্চিম বর্ধমান-সহ রাজ্যের প্রায় সমস্ত জেলা প্রশাসনকেই নবান্ন নির্দেশ দিয়েছিল, ভিন রাজ্য থেকে ফেরা শ্রমিকদের স্থানীয় এলাকায় কাজের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে হবে। পরিযায়ী শ্রমিকদের অনেকের মতে, সেই নির্দেশ পাওয়ার পর একাধিক বৈঠক হয়েছে প্রশাসনিক স্তরে। কিন্তু নিট ফল শূন্য!
শুধু কি অন্ডাল বিমানবন্দর? কলকাতা বিমানবন্দরেও এই ছবি এখন রুটিন। চেন্নাই, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, দিল্লি এমনকি ত্রিপুরার উদ্দেশেও বিমান ধরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা শহরে কুঞ্জবন এলাকায় রয়েছে পুরনো রাজভবন। এয়ার পোর্ট রোডের উপর ঠিক তার উল্টো দিকেই তৈরি হচ্ছে পোলো গ্রুপ অফ টাওয়ারের একটি বহুতল। আর সেখানে কর্মরত অধিকাংশ শ্রমিক মালদহের ইংরেজ বাজার, গাজল এলাকার। এর আগে অনেক সময়ে দেখা গিয়েছে, পেশা বদলে ফেলেছিলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। ঘরে ফেরার পর কাজ না পেয়ে সবজি, মাস্ক, স্যানিটাইজার ফেরি করা শুরু করেছিলেন পাড়ায় পাড়ায়। স্থানীয় এলাকায় কাজের সুযোগ বাড়াতে ১০০ দিনের কাজে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু ফের অন্য রাজ্যের উদ্দেশে রওনা দেওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের বক্তব্য, বাংলায় তাঁরা কোনও আশার আলো না দেখতে পেয়েই আবার ঘর ছাড়তে বাধ্য হলেন।

About the Author