এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য সাথীর ফর্ম বিলি।

Share This
Tags

একদিকে বিধানসভা ভোট। অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতি। এই দুইয়ের মধ্যে তাল মিল রেখেই এবার ‘দুয়ারে দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পকে সত্যিই মানুষের দরজায় নিয়ে যেতে চাইছে সরকার। বিভিন্ন প্রকল্পের মধ‍্যে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পকের চাহিদা তুঙ্গ‍ে। রাজ‍্য সরকারের আয়োজিত ক‍্যাম্পে বিপুল ভিড় হচ্ছে ফর্ম নেওয়ার জন‍্য। তাই এই ভিড় সামাল দিতে বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্যসাথী ফর্ম বিলির সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই বাড়ছে ক্যাম্পের সংখ্যাও। ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পেনে ইতিমধ্যেই প্রায় ২২ লক্ষ মানুষ অংশ নিয়েছেন। মানুষের ব্যাপক সাড়া দেখে আরও ক্যাম্প বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। সূত্রের খবর, গত ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া ‘ফিডব্যাক’ অনুযায়ীই এই সিদ্ধান্ত স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর। এই মর্মে একটি নির্দেশিকাও নবান্ন থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। ‘প্রমিনেন্ট সাজেশনস’ নামে সেই নির্দেশিকায় বেশ কিছু বিষয় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ভিড় সামলাতে ‘কন্যাশ্রী ক্লাব’, ‘সেল্ফহেল্প গ্রুপ’কেও এই ক্যাম্পেনে যুক্ত করার নির্দেশ দিল নবান্ন। ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ডের চাহিদা যেহেতু সব চেয়ে বেশি তাই ভিড় সামালাতে এ বার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘স্বাস্থ্যসাথী’র ফর্ম বিলির নির্দেশ দিলেন মুখ্যসচিব। প্রমিনেন্ট সাজেশনস’ নামে সেই নির্দেশিকায় যা বলা হয়েছে, মোটামুটিভাবে তা এই: যে সময়সূচি ইতিমধ্যেই প্রকাশিত তাতে কোনও বদল ঘটানো হবে না। তবে বহাল সূচির সঙ্গেই জুড়ে নেওয়া হবে এই অতিরিক্ত পরিকাঠামোগত পরিষেবা। যে কোনও মূল্যে ভিড় এড়াতে হবে। আগামী দু’মাস এই কর্মসূচি পালিত হবে। ফলে সংশ্লিষ্ট সকলকে যথেষ্ট উজ্জীবিত ভাবে কাজ করতে হবে বলেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেখতে হবে, অনলাইন ফর্ম পূরণ করার জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে যেন ন্যূনতম তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গত তিনদিনের অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, ‘খাদ্যসাথী’ এবং ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ডের চাহিদাই সব চেয়ে বেশি। ফলে যত বেশি সম্ভব কাউন্টার থেকে এই দু’টি কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ‘কন্যাশ্রী ক্লাবে’র ক্ষেত্রেও যেন বিশেষ নজর দেওয়া হয়। ‘কৃষক বন্ধু’র ক্ষেত্রে যে জটিলতা আছে সেটাও যাতে এই সব ক্যাম্প থেকেই মিটিয়ে ফেলা যায়, সেটা দেখতে হবে। ক্যাম্পগুলি এমন জায়গায় করতে হবে যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ ভালো। ক্যাম্পগুলিতে কোভিড-১৯ প্রোটোকল কঠোর ভাবে মানতে হবে। ক্যাম্পগুলিতে কর্মীদের জন্য টয়লেট ও পানীয়জলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সম্ভব হলে খাবারের ব্যবস্থাও রাখতে হবে। কাজ হয়ে গেলে সমস্ত নিয়ম মেনেই যেন ক্যাম্পগুলি বন্ধ করা হয়।
সূত্রের খবর, ‘কন্যাশ্রী’ ‘সবুজসাথী’র মতোই এই প্রকল্পকে আগামী বিধানসভা ভোটের ‘ক্যাচলাইন’ করতে চলেছে মমতা-সরকার।

About the Author