সম্পাদকীয়

Posted By admin@banglakagaj On সোমবার, মে 1st, 2017 With 0 Comments

স্কুলে ছাত্র জীবনে  যেভাবে স্বাধীনতা দিবস পালন করেছি, পরবর্তী সময়ে তেমন ভাবে করা হয়নি। আমাদের সময়ে মাস্টার মশাই বা দিদিমনিরা যেমন ভাবে বলেছিলেন, তেমন ভাবেই, পূজা পার্বণের মত পালন করা হত  স্বাধীনতা দিবস।

স্বাধীনতা মানে যে লাগামছাড়া বাঁধন হীন মনের ইচ্ছা মত যা কিছু করে  বেড়ানো তা নয়, সেটা সেই ছোট্ট বেলা থেকেই বুঝেছিলাম।  

মাস্টার মশাই বলতেন নিজের প্রান দিয়ে যারা আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন, তাঁদের কথা যদি একটু  মনে করে পথ চলি,  তাহলে, সকলেই দেশের জন্য কিছু না কিছু করতে পারি। চোখ বন্ধ করে মনে মনে ভাবতাম, কিন্তু সত্যি কথা,  কিছুই বুঝতে পারতাম না। কেন না সত্যি করে কিছু জানা বা বোঝার মত  বয়স ছিল  না। তবুও মাস্টার মশাইয়ের কথা ফেলে দেবার নয়, অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করতাম।

সাত সকালে উঠে ড্রেস পরে স্কুলে যাবার  তাগিদ খুব ছিল। সকাল সকাল উঠে বেশ আনন্দ হত, হত ফুটবল খেলা, স্কুলে  মিষ্টি খাওয়া আরও অনেক কিছু। আর সুযোগ পেলে বন্ধুদের বাড়িতে যাওয়া। এটাই ছিল স্বাধীনতা।

পরে আরও একটু বড় হলে  ইতিহাস থেকে পড়ে বুঝতে শিখেছিলাম স্বাধীনতা পাবার কষ্ট। কারা এবং কিভাবে কষ্ট করে স্বাধীনতা এনেছিলেন। তখনকার বোধশক্তি থেকে শুরু করেছিলাম,  লিটিলম্যাগাজিন। ছোট দের ফ্রী  তে পড়ানো, ফ্রী মেডিকেল সেবা আরও অনেক কিছু।

তারপর? লিটিল ম্যাগাজিন চালানো গেল  না। সব কিছু বন্ধ হয়ে গেল। শুধু পড়াশোনা বা কাজের চাপে  নয়, কিছু কিছু লোকজনের  ইচ্ছা অনিচ্ছার উপর ভিত্তি করে।  বুঝলাম একদল মানুষ আছেন ,  বেশ কিছু নীতি নিয়ে চলেন,  তার আবার রকম ফের আছে।  নিজের বেলায় একরকম, অন্যের বেলায় অন্য। সেটা রাজনীতি কি অন্য কিছু বুঝে ওঠার আগেই,জীবন যুদ্ধে হিমশিম খেতে হয়েছে। 

আমরা নিজেরা স্বাধীন। স্বাধীন দেশের নাগরিক। দায়িত্ব এবং কর্তব্য দুটোই আছে।  সংসার আছে। এই নিয়ে জীবন বাঁচে। নিজস্ব মতামত  আছে।  তাই নিয়ে বেঁচে আছি। কিন্তু কতটা স্বাধীন,  জিজ্ঞেস করলে বলতে পারব না।